
টাঙ্গাইলে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য প্রচারাভিযান চালাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যেই ভোটের গাড়ী জেলার উপজেলাশহর ও ব্যস্ততম এলাকা ঘুরে প্রচারাভিযান চালিয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সচেতন করার পাশাপাশি প্রচারপত্র বিলি করছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইলের সিনিয়র জেলা তথ্য কর্মকর্তা তাহলিমা জান্নাত।
জানা যায়, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের সমর্থনে গণভোটের বিষয়ে সারাদেশে প্রচারণার জন্য ২২ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করে ভোটের গাড়ি সুপার ক্যারাভান। টাঙ্গাইলে ভোটের গাড়ি ২৩ থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘুরে প্রচারাভিযান চালায়। ওই সময় গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও গণভোট বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়।
জেলা তথ্য অফিস জানায়, ঢাকার সিডিউল অনুসারে টাঙ্গাইলে ‘ভোটের গাড়ী ক্যারাভান এক্টিভিশন’ শীর্ষক কর্মসুচি বাস্তবায়নের জন্য ঘুরে গেছে। ওই গাড়ির সাথে আসা কর্মীরা ২৩ ডিসেম্বর মির্জাপুর, ২৪ ডিসেম্বর দেলদুয়ার ও নাগরপুর, ২৫ ডিসেম্বর কালিহাতী, বাসাইল-সখীপুর, ২৬ ডিসেম্বর ঘাটাইল ও ভূঞাপুর এবং ২৭ ডিসেম্বর গোপালপুর, ধনবাড়ী ও মধুপুর উপজেলায় জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালায়।
ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুরজাহান আক্তার সাথী উপজেলার ধনবাড়ী পৌরসভার বাসস্ট্যান্ড, ফল বাজার এবং ধোপাখালী ইউনিয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রচার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেছেন।
এদিকে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই কার্যক্রমের পর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে গণভোট বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছেন। ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৭ জানুয়ারি বুধবার তিনি নাগবাড়ীসহ বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ ও প্রচারপত্র বিলি করেছেন।
টাঙ্গাইল জেলার সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা তাহলিমা জান্নাত তিনিও বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে সকল মহলের পাশাপাশি নারীদের সচেতন করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। পাহাড়ী অঞ্চল সখিপুরের যাদবপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে নারীদের সচেতন করার জন্য বৈঠক করেছেন।
তাহলিমা জান্নাত জানান, টাঙ্গাইলে ভোটের গাড়ী এসেছিল। ২৩ থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকার সিডিউল অনুসারে তারা কাজ করেন। আমরা জনগণকে গণতন্ত্র, ভোট ও গণভোট সম্পর্কে সচেতন করার জন্য কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গিয়ে গিয়ে। এই কাজ চলমান থাকবে।
উল্লেখ্য ভোটের গাড়ী উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহম্মদ ইউনূস বলেন, “ভোটাধিকার কারো দয়া নয়। এটি আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই আমরা ঠিক করি, আমাদের ভবিষ্যৎ কোনপথে যাবে। একটি অবাধ, সুষ্ঠ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।”
তিনি বলেছেন, “আপনি দেশের মালিক। এদেশ আগামী পাঁচ বছর আপনার পক্ষে কে চালাবে সেটা আপনি ঠিক করে দিবেন। আপনার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিন। সৎ ও সমর্থ প্রার্থী বেছে ভোট দিন। চিন্তা ভাবনা করে ভোটদিন।”
তিনি আরও বলেছেন, "এবারের নির্বাচনে আপনি আরো একটি ভোট দিবেন। জুলাই সনদে ভোট দিবেন। দীর্ঘ ৯ মাস ধরে সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দিনের পর দিন বৈঠককরে এই সনদ তৈরি হয়েছে। এই সনদ দেশের মানুষ পছন্দ করলে দেশ আগামী বহুবছরের জন্য নিরাপদে চলবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আপনি যদি এই সনদ সমর্থন করেন তবে গণভোটে অবশ্যই হ্যাঁ ভোট দিন। চলুন, আমরা সবাই মিলে এই গণতান্ত্রিক যাত্রাকে সফল করি। চলুন, ভোট দিই। নিজের জন্য, দেশের জন্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য, নতুন পৃথিবীর জন্য।”